1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

এই সপ্তাহান্তেও উগ্রডানপন্থিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে জার্মানির বিভিন্ন শহরে৷ এএফডির জনপ্রিয়তায় লেগেছে ভাটার টান৷ জোট সরকারের অবস্থাও উদ্বেগজনক৷

https://p.dw.com/p/4cZhu
জার্মানির ভল্ফসবুর্গে উগ্রডানপন্থি মতাদর্শবিরোধী বিক্ষোভ
জার্মানিতে প্রতি সপ্তাহেই চলছে উগ্রডানপন্থি মতাদর্শবিরোধী বিক্ষোভছবি: Michael Matthey/dpa/picture alliance

জার্মানিতে একদিকে প্রতি সপ্তাহেই চলছে উগ্রডানপন্থি মতাদর্শবিরোধী বিক্ষোভ, অন্যদিকে কমছে জোট সরকারের জনপ্রিয়তা৷ আইএনএসএ ইন্সটিটিউটের গত সপ্তাহের জনমত জরিপ অনুযায়ী, চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস এবং প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সামাজিক গণতন্ত্রী (এসপিডি) দলের পাশে আছে ১৪% এবং ভাইস চ্যান্সেলর রবার্ট হাবেকের সবুজ দলের পাশে আছে মাত্র ১৩% মানুষ৷ তবে আরেক জোট শরিক বাণিজ্য-বান্ধব এফডিপি দলের গ্রহণযোগ্যতা এ মুহূর্তে এতটাই কম যে এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে সংসদেই থাকতে পারবে না৷ সর্বশেষ জনমত জরিপে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছে এফডিপি৷ জার্মানিতে ৫%-এর কম ভোট পাওয়া দল সরকারে থাকা তো দূরের কথা, সংসদেই যেতে পারে না৷

এ পরিস্থিতিতেও স্টাইনমায়ারকে আনন্দ প্রকাশের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে সপ্তাহান্দের উগ্র ডানপন্থি মতবাদবিরোধী বিক্ষোভ৷

‘গণতন্ত্র রক্ষা'র উদ্দেশ্যে উগ্র ডানপন্থাবিরোধী এমন গণবিক্ষোভ গত ১৩ জানুয়ারি থেকে প্রতি সপ্তাহান্তেই হয়ে আসছে জার্মানিতে৷ নতুন বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে এ বিক্ষোভ সমাবেশের সূচনাটা হয়েছিল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ক গণমাধ্যম কারেক্টিভ-এ প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর এক খবরের প্রতিক্রিয়ায়৷ কারেক্টিভের সেই খবরে দাবি করা হয়, এএফডির কয়েকজন সদস্যসহ জার্মানির ডানপন্থি মতাদর্শের কিছু মানুষ এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানোর কৌশল নির্ধারণের জন্য আলোচনা করেছেন৷

মাগডেবুর্গে বিক্ষোভ সমাবেশ
গত ১৩ জানুয়ারি থেকে প্রতি সপ্তাহান্তেই হয়ে আসছে জার্মানিতেছবি: Peter Gercke/ZB/dpa/picture alliance

রবিবার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশটি হয়েছে জার্মানির উত্তরাঞ্চলের শহর ভল্ফসবুর্গে৷ ছয় হাজারের মতো মানুষ অংশ নেন সেই সমাবেশে৷

এছাড়া হানোফার, মাগডেবুর্গ, বোখুম, রিটবার্গ, এসেন এবং বেশ কিছু ছোট শহরে এমন সমাবেশ হয়৷ মাগডেবুর্গের সমাবেশে সাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী রাইনার হাসেলফও উপস্থিত ছিলেন৷ সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে খ্রিষ্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর নেতা বলেন, ‘‘যেখানেই বর্ণবাদ এবং অমানবিকতা দেখা দেবে- তার রূপ যেমনই হোক না কেন, আমাদের সবাইকে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে৷''

রবিবার সারা দেশে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ নিয়ে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার৷

সেখানে তিনি বলেন, ‘‘আজ আবার হাজার হাজার তরুণ এবং প্রবীণ, (তাদের মধ্যে) অনেকে সপরিবারে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হবেন৷ আমরা সবাই এ সমাবেশের পক্ষে, কারণ, আমরা মিলেমিশে স্বাধীনভাবে সসম্মানে বাঁচতে চাই৷''

তিনি আরো বলেন, এসব সমাবেশ ঘৃণা, সহিংসতা এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে সকলের জোরালো প্রতিবাদ৷

লাগাতার বিক্ষোভ সমাবেশের কিছুটা প্রভাব এএফডির জনপ্রিয়তাতেও পড়েছে৷ আইএনএস-এর জনমত জরিপ অনুযায়ী জার্মান সংসদের ডানপন্থি এই বিরোধী দলকে এই মুহূর্তে মাত্র ১৯% ভাগ মানুষ চায়৷ ২০২৩ সালের জুনের পর এই প্রথম জরিপে এত কম সমর্থন পেলো এএফডি৷  সেই তুলনায় বেশ ভালো অবস্থা সিডিইউ এবং তাদের বাভারিয়ান সহযোগী সংগঠন সিএসইউ-এর৷ তাদের সমর্থন জানিয়েছে জরিপে অংশ নেয়া ৩১% ভাগ মানুষ৷ এএফডির সমর্থন (১৯%) এই দুই দলের যৌথ সমর্থনের চেয়ে অনেক কম হলেও জোট সরকারের তিন শরিক এসপিডি (১৪%), গ্রিন (১৩%) এবং এফডিপি (৪%)-র চেয়ে এখনো বেশি৷

এসিবি/কেএম (এএফপি, কেএনএ)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান